সদ্য বিবাহিত মনির সাহেব নতুন বাসায় উঠলে পাশের বাসার হাশেম সাহেব বললেন, "এ ঘরে ভূত আছে, রাতে নানান রকম শব্দ হয়, আপনি এ বাসায় কীভাবে থাকবেন?" এসব শুনে তিনি ভয় পেয়ে যান। রাতে ঘুমাতে গিয়ে হাশেম সাহেবের কথার সত্যতা মিলে। পরদিন কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারেন ওপরের তলায় নানা বয়সী তিনটি বাচ্চা গভীর রাত পর্যন্ত খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। এ শব্দগুলিকেই সবাই ভূত মনে করে ভয় পেত।
"উদ্দীপকের মনির সাহেব এবং 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবে এখনো অনেকে ভূতে বিশ্বাস করে। যুগ যুগ ধরে প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসই এর জন্য দায়ী। তাই কুসংস্কারচ্ছন্ন, অজ্ঞ মানুষেরা ভূতে বিশ্বাস করলেও আধুনিক মানসিকতা-সম্পন্ন সচেতন ব্যক্তিরা তা বিশ্বাস করে না।
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে পরাশর ডাক্তার আধুনিক মানসিকতার ধারক ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি। তিনি ভূত-প্রেত কিংবা অশরীরী আত্মায় বিশ্বাস করেন না। তাই নগেন ভূতে বিশ্বাস করে অসুস্থ হয়ে পড়ে পরাশর ডাক্তারের কাছে সব ঘটনা বললে তিনি গভীরভাবে বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন। পরে সেই ঘরে গিয়ে রুপার ফ্রেমে বাঁধানো তৈলচিত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তাতেই নগেনের শক খাওয়ার বিষয়টি আবিষ্কার করেন। গল্পে পরাশর ডাক্তারের এই বিজ্ঞানমনস্কতা ও সচেতনতাবোধের বিষয়টি উদ্দীপকের মনির সাহেবের কর্মকান্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে হাশেম সাহেবের কথা শুনে মনির সাহেব ভয় পেলেও ঘরে ভূত আছে কি না সেই বিষয়টি প্রমাণ করতে চেয়েছেন। তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে জেনেছেন যে, তার বাসার ওপরের তলায় নানা বয়সী তিনটি বাচ্চা গভীর রাত পর্যন্ত খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। তাদের শব্দকেই এত দিন সবাই ভূত মনে করে ভয় পেত।
'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন রুপার ফ্রেমে বাঁধানো মামার ছবি ছুঁয়ে বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেনি। সব শুনে এবং অনুসন্ধান করে পরাশর ডাক্তার বিষয়টি নগেনকে বুঝিয়ে দেন। উদ্দীপকের মনির সাহেবও ওপর তলার তিনটি বাচ্চার রাতে খেলা করার ফলে শব্দকে যে হাশেম সাহেব ভূত মনে করে ভুল করেছেন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?